1. selimsavar@gmail.com : khobar24 :

জামিন পেলেন ত্রিপুরার সেই দুই নারী সাংবাদিক

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ৪৫ বার পড়েছেন

অনলাইন ডেস্ক : ত্রিপুরায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ে রিপোর্ট করে গ্রেপ্তার হওয়া সেই দুই নারী সাংবাদিক সমৃদ্ধি সাকুনিয়া এবং স্বর্ণা ঝা জামিন পেয়েছেন। এ মামলার শুনানিতে আদালত বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মারাত্মক এক অপরাধ। কিন্তু তাদেরকে আটকে রাখা তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে চরম মাত্রায় খর্ব করে। এমন যুক্তিতে আদালত তাদের জামিন দিলেও রাজ্যের তথ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী তাদের আক্রমণ করে কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, তারা ত্রিপুরার সাম্প্রদায়িক ঘটনা নিয়ে তাদের পোস্ট দিয়ে সরকার বিরোধিতায় জনগণকে উস্কে দিচ্ছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

সম্প্রতি ত্রিপুরায় একটি মসজিদে ভাঙচুরের খবর প্রকাশ করেন এই দুই সাংবাদিক। তারা অবস্থান করছিলেন একটি হোটেলে। সেখানে অবস্থানকালেই তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। পুলিশের এমন মামলার নিন্দা জানিয়েছে দ্য এডিটরস গিল্ড অব ইন্ডিয়া। তারা অবিলম্বে ওই দুই সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করে। একই সঙ্গে তারা যাতে মুক্তভাবে সফর করতে পারে সেই অবস্থা ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানায় এডিটরস গিল্ড অব ইন্ডিয়া।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, রোববার তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে ত্রিপুরা পুলিশ। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় রিপোর্ট হয়।

সোমবার আদালত তাদেরকে জামিন দিয়েছে। কিন্তু রাজ্যের তথ্যমন্ত্রী সুশান্ত অধিকারী বলেছেন, এই দুই নারী সাংবাদিক জনগণকে উস্কানি দিচ্ছিলেন। তারা সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তুলছিলেন। অন্য একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে মুসলিম সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছিলেন তারা।

মন্ত্রী আরো বলেন, যদি তারা মাঠপর্যায় থেকে রিপোর্ট করতেন তাহলে আমাদের কোনো সমস্যা থাকতো না। কিন্তু কেন তারা উস্কানিমূলক পোস্ট দিলেন? তিনি বলেন, অমরাবতীতে কি হয়েছে তা আমরা সবাই দেখেছি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাস্তায় নেমে আসতে উস্কানি দেয়া হয়েছে। কে দিয়েছে সেই উস্কানি?

আদালত ওই দুই সাংবাদিককে মুক্তির আদেশ দিয়ে বলেছে, আদালতের কাছে মনে হচ্ছে তদন্তের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটকের প্রয়োজন থাকতে পারে না। একই কারণে, তাদেরকে পুলিশি হেফাজতে আটকে রাখারও কোনো প্রয়োজন নেই। এতে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়।

ত্রিপুরা পুলিশ বিবৃতিতে বলেছে, সমৃদ্ধি সাকুনিয়ার একটি টুইট নিয়ে এই মামলা। তিনি একটি উপাসনালয় পরিদর্শন করেছেন। সেখানে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু মিস সাকুনিয়া যে পোস্ট দিয়েছেন, তা সত্য নয়। এটা সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃণার সৃষ্টি করে। সেখানে ধর্মীয় কোনো ডকুমেন্ট পোড়া অবস্থায় পায়নি পুলিশ। এ জন্য ওই দুই সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগরতলা ডাকা হয়েছিল। সেখান থেকেই তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তার আগে তারা ওই ঘটনার যে ভিডিও পোস্ট করেছে, তা বানোয়াট বলে সন্দেহ করছে ত্রিপুরা পুলিশ।

বিতর্কে থাকা এই দুই নারী সাংবাদিক বলেছেন, ত্রিপুরা থেকে তারা বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে আটক করে পুলিশ।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন :